একদা হলে ফাঁও খাওয়া-দাওয়ার রোল পড়িল । বাঙালি মাত্রই ফাঁও আলকাতরা পর্যন্ত খাইতে ওস্তাদ । সুতরাং এইরূপ খাওয়া-দাওয়া হইতে নিজেকে বিরত রাখা এই অধমের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব হইল না । নির্বিবাদ ফাঁও খাইব মনে করিয়া জড়াইয়া পড়িলাম এবং তৎসংলগ্ন কি কি বিপদে পড়িয়াছিলাম তাহাই আজকের ব্লগের আলোচনার বিষয় ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অত্যাসন্ন । হলের মান রাখিবার মরণপণ শপথ লইয়া ছাত্রকূল বৈকাল বেলায় মাঠে কঠোর অনুশীলন করিতে লাগিল । বহুদিন ধরিয়া ক্রীড়াক্ষেত্রে শিরোপার মুকুট না পাইয়া হলের কর্তামহাশয়গণ (প্রভোষ্ট) ভুখানাঙ্গা দিন কাটাইতেছিলেন আর বোধকরি অন্য হলগুলির কর্তাদের নানাবিধ কটুবাক্য শ্রবণ করিয়া দিন গুজরাইতেছিলেন । তাহাদের আর সহ্য হইবে কেন ? আর দেরী না করিয়া তাহারা নিজ নিজ ঘড়িতে চাবি দেওয়া শুরু করিলেন , পারিলে রুমে রুমে গিয়া ছাত্রদের অনুশীলনের নিমিত্তে মাঠে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন । হলে খেলা খেলা করিয়া রোল পড়িয়া গেল ।
এই অধম প্রতিনিয়ত উৎকৃষ্টরূপে দিবা নিদ্রা সারে , আয়েসে ভুরি আর শরীরের ওজন বাড়াইয়া চলে আর সন্ধ্যা যখন প্রায় নামিয়া আসে তখন কুখাদ্য পরিবেশক কেন্টিনে যায় , দুপুরের খানিক পরে প্রস্তুত শুকনা পুরী , সিংগারা , সমুচা ,চপ ইত্যাকার দুষ্পাচ্য খাদ্যসামগ্রী গিলিয়া চলে । কেন্টিন সংলগ্ন দোকানে ছাত্রগনের নির্বিচারে কলাটা-মূলাটা-চকোলেট দুধটা খাইতে দেখিয়া শুকনা সমুচা গলা দিয়া আর নামিতে চাহে না । ইহারা হলের ক্রীড়াবিদ । মাত্রই মাঠে অনুশীলন করিয়া আসিয়া খাবার-দাবার উচ্ছেদ করিতে আসিয়াছে । তা করুক গে । কে না জানে এইসব কর্মে অতিমাত্রায় ক্যালরি ক্ষয়িত হয় , উহারা তো খাবার খাবেই । কিন্তু খাওয়া পরবর্তী তাহাদের কান্ডকারখানা দেখিয়া মনটা আরও উৎসুক হইয়া পড়ে । খাওয়ার পরে ইহারা শুধু বলে অ্যাথলেটিক্স । ব্যস কেল্লা ফতে আর খাবারের মূল্য প্রদানের কোন আবশ্যকতা থাকে না । মনে মনে ভাবি , যাই , গিয়া এটা সেটা খাইয়া বলি অ্যাথলেটিক্স । দেখি কি হয় ? কিন্তু ভীরু মন সায় দেয় না । যদি কিছু হইয়া যায় ।
অধমের রুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নামী ক্রীড়াবিদের বাস । ইতোপূর্বে দৌড়-লম্ফ -ঝাঁপ এইরূপ ক্রীড়ায় সে হলের পক্ষে নানান সাফল্য বগলদাবা করিয়াছে । এইবারেও তাহার উপর অনেক ভরসা । আমি তাহাকে শুধাইলাম আচ্ছা তাহাদের কলাটা-মূলাটা নির্বিচারে ভোজন এবং তৎপর বকেয়া প্রদান না করিয়া শুধুমাত্র অ্যাথলেটিক্স কথাটি পাড়িয়া সটকিয়ে পড়ার কারন কি ? সে আমাকে যাহা বলিল তাহাতে আমার চক্ষু চড়কগাছ হইল , উত্তেজনাবশত হাত-পা কাঁপিতে লাগিল , বুকে ফাঁও খাওয়ার আশা জাগ্রত হইল । ক্রীড়াবিদদের মাগনা খাইবার জন্য নাকি একখানি বহি আছে । অনুশীলন করিয়া এটা-ওটা খাইয়া যাও আর বহিতে লিখিতে কও । বহির সমুদয় বিল হল হইতে দেওয়া হইবে । ব্যস আর কে পায় ? অচিরেই ক্রীড়াবিদের খাতাটায় নাম লিখিব বলিয়া মনস্ত করিলাম । নাম না হয় লিখিব কিন্তু কোন খেলায় লিখিব ? শরীরের যে হাল তাহাতে দৌড় বা লম্ফ কিছুতেই কিছু পারিব বলিয়া মনে হইল না । ভাবিলাম ঐসবে গিয়া কাজ নাই , সহজ কোন খেলায় নাম দিই । ভুলেও যদি খেলার মাঠে আসল প্রতিযোগিতার দিন যাইতে হয় তাহলে যাতে মানসম্মান যা অবশিষ্ট আছে তাহা নিয়া ফিরিয়া আসিতে পারি । অনেক ভাবিয়া চাকতি নিক্ষেপ খেলায় নাম লিখিয়া আসিলাম । ইহা আর এমন কি খেলা হইবে ? একখানি চাকতি লইয়া দূরে ছুড়িয়া মারিলেই হইল , দৌড়-ঝাঁপের খাটুনিটা নাই ।
খাতায় নাম লিখিয়া ক্রীড়াবিদের সমুদয় সুবিধাদি উপভোগ করিতে শুরু করিলাম । দিবানিদ্রা সারিয়া দোকানে যাই আর মনভরে এটা-সেটা খাই । যেইদিন সন্ধ্যায় ছাত্র পড়াইতে যাইতে হয় সেইদিন ছাত্রের বাটিতে জল-খাবার খাইলেও দোকানেরটা ছাড়ি না । দোকান হইতে বিস্কুটটা-চানাচুরটা-সিগারেটটা আনিয়া রাখি , বেশী রাত্রির হইলে খাইব । অনুশীলনের কোন নাম নেই । অনুশীলনের বালাই কে করিতে যাইবে ? ইহারা তো আর দেখিতেছে না , বহিতে তো ক্রীড়াবিদ হিসাবে নাম আছেই ।
>>>>>>>বাকিটুকু পড়ুন...
উত্তর খুঁজতে দক্ষিণে
11 months ago